.png&w=128&q=75)
এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন (AMF)
আমাদের সম্পর্কে

স্বাধীন বাংলাদেশে সমাজ গঠন, স্বাধীনতা অর্জন এবং যেকোনো জাতীয় সংকটে পুরুষরা সবসময় অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছেন এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন। ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক গণ-আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ে দেশের পুরুষেরা রাজপথে বুক পেতে দিয়েছেন এবং নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ত্যাগের সময় রাষ্ট্রের প্রয়োজন কেবল পুরুষের রক্ত ও হাড়ভাঙা শ্রম হলেও, অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের সময় পুরুষকে প্রতিনিয়ত কোণঠাসা ও সুবিধাবঞ্চিত রাখা হচ্ছে। বর্তমান আইনি ও সামাজিক কাঠামোতে কেবল নারী নির্যাতনের দিকটি একপেশেভাবে প্রচার করা হলেও পুরুষ নির্যাতনের নির্মম বাস্তবতা ও আইনি শূন্যতাকে সম্পূর্ণ আড়াল করে রাখা হয়েছে। মিথ্যা মামলা, পারিবারিক হয়রানি এবং আইনি সুরক্ষাকবচের অভাবে আজ সমাজের বহু পুরুষ নিঃস্ব ও কোণঠাসা জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

জাতীয় সংকটে পুরুষের ঐতিহাসিক অবদান
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
- মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় রাজপথে যাঁরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন (রফিক, বরকত, জব্বার, সালামসহ অন্যান্য), তাঁদের শতভাগই ছিলেন পুরুষ।
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার সর্বোচ্চ সম্মাননাপ্রাপ্ত ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠের সকলেই পুরুষ। সম্মুখ সমরে অংশ নেওয়া ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ৯৫%-এর বেশি ছিলেন পুরুষ।
- গণতান্ত্রিক গণ-আন্দোলন
- নূর হোসেন ও ডা. মিলনসহ স্বাধীনতা-উত্তর প্রতিটি প্রধান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক গণ-আন্দোলনে নিহতদের সিংহভাগই ছিলেন পুরুষ।
- ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান
- সরকারি গেজেট অনুযায়ী ৮৩৪ জন শহীদের মধ্যে শিশু ১৩৫ জন এবং নারী ১০-১১ জন। নারী ও শিশু বাদে বাকি প্রায় ৯৮% শহীদই ছিলেন পুরুষ।

আইনি শূন্যতা ও সংগঠনের আত্মপ্রকাশ
নারীদের সুরক্ষার জন্য দেশে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর আইন এবং একাধিক রাষ্ট্রীয় মন্ত্রণালয় ও এনজিও থাকলেও, পুরুষ নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের আইনি ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বা ‘পুরুষ বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ নেই। এই প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যতার কারণে পুরুষরা মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে সামাজিকভাবে অপদস্থ হচ্ছেন এবং নানা হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন।
এই চরম আইনি ও সামাজিক বৈষম্যের অন্ধকার ভেদ করে ২০১৩-১৪ সাল থেকে নিবেদিতপ্রাণ পুরুষ অধিকার কর্মীদের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে এই সংগঠনের ভিত্তি তৈরি হয়। দীর্ঘ মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার পর, ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন (RJSC) থেকে সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি স্বীকৃতি ও নিবন্ধন লাভ করে [Reg. No. S-13304/2020]।

আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
যেকোনো প্রকার সরকারি বা আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াই, কেবল সমাজ ও ব্যবস্থার দ্বিমুখী নীতি মোকাবেলা করে ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন’ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য ও কর্মপরিধি হলো:
- পুরুষের আইনি সুরক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
- মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার পুরুষদের আইনি সহায়তা প্রদান।
- পারিবারিক ও সামাজিক বৈষম্য দূর করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন।
- পুরুষ নির্যাতন ও অধিকার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন (AMF) — সমতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি সুস্থ পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন বিনির্মাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।